আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দরপতন

নিউইয়র্কের ফিউচার্স মার্কেটে গত শুক্রবার একদিনেই অপরিশোধিত চিনির দাম প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। গত মে মাসের পর এটি ছিল সর্বোচ্চ দৈনিক দরপতন।

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ১৭ মাস সর্বোচ্চে থাকার পর কমতে শুরু করেছে অপরিশোধিত চিনির দাম। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে দেশটিতে চিনি আমদানির পরিমাণ কমতে পারে, এমন পূর্বাভাসে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দরপতন হয়েছে। খবর বিজনেসলাইন।

নিউইয়র্কের ফিউচার্স মার্কেটে গত শুক্রবার একদিনেই অপরিশোধিত চিনির দাম প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। গত মে মাসের পর এটি ছিল সর্বোচ্চ দৈনিক দরপতন। এর আগে গত মাসে চিনির দাম ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং আগামী মৌসুমে বিশ্ববাজারে ঘাটতির আশঙ্কায় তখন দাম বাড়ে।

ভারত সরকার সম্প্রতি শুল্কমুক্ত সুবিধায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টন অপরিশোধিত চিনি আমদানির অনুমতি দেয়। এ সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। তবে রাবোব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের স্থানীয় বাজারে কমতে শুরু করেছে চিনির দাম। ফলে দেশটির বড় পরিমাণে চিনি আমদানির সম্ভাবনা আগের তুলনায় কমে গেছে।

এদিকে চিনির মজুদ ও স্থানীয় বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে ভারত সরকার ব্যবসায়ীদের গুদামে চিনি রাখার সীমা আরো কঠোর করে। এতে মজুদে থাকা চিনি বাজারে ছাড়তে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। কমোডিটি লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান এমইআইআর কমোডিটিজ ইন্ডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহিল শেখ জানান, সরকারি পদক্ষেপের কারণে বাজারে চিনির সরবরাহ বেড়েছে এবং দাম কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। ফলে ভারতের চিনি আমদানির পরিমাণ পাঁচ-ছয় লাখ টনে নেমে আসতে পারে।

অন্যদিকে বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিলে ইথানলের তুলনায় চিনি উৎপাদনে মুনাফা বেড়েছে। ফলে দেশটির চিনিকলগুলো আখ থেকে বেশি চিনি উৎপাদনে ঝুঁকছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আরও